দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতে বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) বিক্রিতে নতুন রেকর্ড হয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে দেশটিতে মোট ৩ লাখ ২৭ হাজার ৯০১টি বৈদ্যুতিক যানবাহন খুচরা বিক্রি হয়েছে, যা এক মাসে সর্বোচ্চ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই বিক্রি বেড়েছে ৬৬ শতাংশেরও বেশি। ফলে জুলাইয়ে ভারতে বিক্রি হওয়া প্রতি আটটি গাড়ির প্রায় একটি ছিল বৈদ্যুতিক।
ফেডারেশন অব অটোমোবাইল ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (এফএডিএ) জানিয়েছে, জুলাইয়ে দেশের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ যানবাহন শ্রেণিতেই ইভির বাজার অংশীদারিত্ব বেড়েছে। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক দুই ও তিন চাকার যানবাহনের বিক্রিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
এফএডিএ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট সাই গিরিধর বলেন, জুলাইয়ে ভারতে এক মাসে যত বেশি বৈদ্যুতিক যানবাহন বিক্রি হয়েছে, এর আগে কখনো হয়নি। তাঁর ভাষায়, দুই চাকার বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিক্রি প্রথমবারের মতো ২ লাখ ইউনিটের সীমা ছাড়িয়েছে। জুলাইয়ে এই শ্রেণিতে ইভির বাজার অংশীদারিত্ব দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ২ শতাংশে, যা জুনে ছিল ১০ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ।
তিন চাকার বৈদ্যুতিক যানবাহনের ক্ষেত্রেও ইভির আধিপত্য আরও বেড়েছে। জুলাইয়ে এই শ্রেণিতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের বাজার অংশীদারিত্ব হয়েছে ৬৫ দশমিক ১ শতাংশ। জুনে তা ছিল ৬২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং গত বছরের জুলাইয়ে ৬০ দশমিক ৩ শতাংশ।
বাণিজ্যিক যানবাহনেও বৈদ্যুতিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। জুলাইয়ে এই শ্রেণিতে ইভির বাজার অংশীদারিত্ব বেড়ে ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশে পৌঁছেছে। জুনে এর হার ছিল ৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং ২০২৫ সালের জুলাইয়ে মাত্র ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
অন্যদিকে, বৈদ্যুতিক যাত্রীবাহী গাড়ির বিক্রি গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ৮৩ শতাংশ বেড়েছে। জুলাইয়ে এই শ্রেণিতে ইভির বাজার অংশীদারিত্ব ছিল ৭ দশমিক ৯ শতাংশ, যা জুনের সমান হলেও গত বছরের জুলাইয়ের ৫ দশমিক ১ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
এফএডিএ-এর সাই গিরিধর বলেন, চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কিছু জনপ্রিয় মডেলের সরবরাহ সীমিত থাকায় যাত্রীবাহী ইভির বিক্রি আরও বাড়তে পারেনি। উৎসবের মৌসুমের আগে নির্মাতাদের সরবরাহ-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকটের কারণে ফের জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে পারে। এতে মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয় ও দীর্ঘমেয়াদি খরচ কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আরও বেশি ভোক্তা বৈদ্যুতিক যানবাহনের দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এফএডিএ-এর মতে, জুলাইয়ের পরিসংখ্যান শুধু বিক্রি বৃদ্ধির চিত্র নয়; বরং ভারতের যানবাহন বাজারে বৈদ্যুতিক প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে তিন চাকার যানবাহনে ইভি এখন বিকল্পের পরিবর্তে প্রধান পছন্দে পরিণত হচ্ছে এবং বাণিজ্যিক যানবাহনেও বিদ্যুতায়ন পরীক্ষামূলক পর্যায় পেরিয়ে বাস্তব ক্রয়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সাই গিরিধরের ভাষায়, ভারতের ইভি রূপান্তর এখন আর ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস নয়; এটি ইতোমধ্যেই দেশের শোরুম ও সড়কের বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।
এমএস/